Friday, October 16, 2026
spot_img
Homeফিচারমতিঝিল শাপলা চত্বর: বাংলাদেশের অর্থনীতি, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার মিলনকেন্দ্র

মতিঝিল শাপলা চত্বর: বাংলাদেশের অর্থনীতি, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার মিলনকেন্দ্র

মেহেদী হাসানঃ– রাজধানী ঢাকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে অবস্থিত ‘শাপলা চত্বর’ কেবল একটি বৃত্তাকার ট্রাফিক আইল্যান্ড বা চত্বর নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচিতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক অনন্য নীরব সাক্ষী।

ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে মতিঝিল এলাকাটি মূলত নওয়াবদের বাগানবাড়ি ও ঝিলঘেরা এলাকা ছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী নির্মম গণহত্যা চালায়, যার ঐতিহাসিক স্মৃতিবাহী গণকবরের দাগও এলাকাটিতে রয়েছে। স্বাধীনতার পর মতিঝিলকে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা (Central Business District) হিসেবে গড়ে তোলা শুরু হলে, এর ঠিক কেন্দ্রস্থলে একটি জাতীয় পরিচায়ক ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। জাতীয় ফুল ‘শাপলা’-কে সম্মান জানিয়ে চত্বরটিকে ‘শাপলা চত্বর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

স্থাপত্য ও নান্দনিক বর্ণনা

  • কেন্দ্রীয় ভাস্কর্য: চত্বরের মাঝখানে নির্মিত একটি বৃত্তাকার কৃত্রিম জলাধারের কেন্দ্র থেকে ইট, সিমেন্ট ও ধাতব কাঠামোয় গড়া একটি বিশালাকার ফুটন্ত সাদা শাপলা ফুল আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।
  • পাপড়ি ও ফোয়ারা: জলাধারের পানিতে ছড়ানো শাপলা পাতা এবং উন্মুক্ত পাপড়িগুলোর চমৎকার অবয়ব পানির ওপর আসল শাপলা ভেসে থাকার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে। চারপাশে থাকা পানির ফোয়ারা ও বিশেষ আলোকসজ্জা রাতে স্থানটিকে নান্দনিক রূপ দেয়।
  • রূপক তাৎপর্য: জলাধারের পানি ও ভাস্কর্যের লাল-সবুজ আবহ রূপক অর্থে বাংলাদেশের সবুজ ভূখণ্ড, লাল সূর্য এবং নদীমাতৃক রূপকে তুলে ধরে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

শাপলা চত্বরকে বলা হয় বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’। একে কেন্দ্র করে চারপাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রধান সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান—

  • উত্তর-পূর্বে: দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’।
  • চারপাশে: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE), সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সাধারণ ও জীবন বীমা কর্পোরেশনসহ একাধিক বৃহৎ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।প্রতিদিন লাখ লাখ চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় স্থানটি এক কর্মমুখর রূপ নেয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক আবর্ত

বাণিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি শাপলা চত্বর বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচিতে দেশব্যাপী লাখ লাখ মানুষের অবস্থানের স্থান হিসেবে শাপলা চত্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বহুল আলোচিত হয়।

ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন, স্থাপত্যের সৌন্দর্য আর প্রাত্যহিক অর্থনৈতিক ব্যস্ততার সমন্বয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর আজও ঢাকার অন্যতম প্রধান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে স্বমহিমায় টিকে রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments