Friday, October 16, 2026
spot_img
Home Blog

স্ত্রী চাইলে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে বকেয়া দেনমোহর: হাইকোর্ট

বিয়ের সময় বকেয়া রাখা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর মতো ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

দেনমোহর সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন মামলার নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ ও রায় দেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধে অযথা গড়িমসি বা কালক্ষেপণ করলে এবং স্ত্রীকে তা আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করলে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো অবস্থাতেই দেনমোহরের কোনো অংশ কমানো, হ্রাস করা বা মওকুফ করার এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।

বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালায় বকেয়া দেনমোহরের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা ঠিক কখন পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে এতদিন সুস্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা ছিল না। এর ফলে বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল বকেয়া দেনমোহর দাবি করা যায়—এমন একটি ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল।

হাইকোর্টের রায়ে এই ধারণার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। রায়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরার প্রাসঙ্গিক আয়াতের উল্লেখ করে আদালত বলেন, ইসলামে দেনমোহর বকেয়া রাখা বা ফেলে রাখার সুযোগ নেই; এটি স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার।

মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বকেয়া দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পথ বন্ধ হলো। এখন আর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী দেনমোহর পরিশোধে টালবাহানা করতে পারবেন না।

তার মতে, নারীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের এই রায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত সৌদি জোটের 

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার জানিয়েছে, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনী হুতিদের দখল করা অঞ্চল পুনরুদ্ধারে লড়াই করছে। 

গত মাসে হুতিরা দ্রুত আকস্মিক অভিযানে এসব এলাকা দখল করেছিল।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদসহ কয়েকটি বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে। 

অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, ইয়েমেনে আদেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার এই পাল্টাপাল্টি ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন হুতিরা সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে পিছিয়ে পড়ার দাবি অস্বীকার করেছে। 

এর আগে সোমবার ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও বন্দরনগরী মোচার আশপাশের এলাকা থেকে হুতিদের সরিয়ে দিয়েছে।

আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

তবে ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের উভয় পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের জন্য সেখানে প্রবেশ করা কঠিন।

চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির পর, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা লোহিত সাগরের পুরো পশ্চিম উপকূল দখল করে নেয়। সাম্প্রতিক এই অভিযান ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতকে আবারও তীব্র করে তুলেছে। 

উভয়পক্ষের মধ্যে এই লড়াইয়ের ফলে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধও আরও গভীর হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং বাণিজ্যিক নৌপথে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে।

উভয় পক্ষের সূত্র মঙ্গলবার এএফপিকে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধাসহ ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বুধবার জানান, রিয়াদের উত্তরে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়ার ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের উত্তরে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’

এর আগে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন নিক্ষেপ এবং আবহা বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ চালানো হয়েছে। 

তার দাবি, এসব আক্রমণ ‘নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।’

এই সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো হুতিরা কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর দাবি করেছে।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির আকাশসীমা প্রায়ই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে এসব বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেনি এবং বিমানবন্দরে কোনো হামলা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেনি।

তবে মঙ্গলবার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের দিন ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারের প্রধান সমর্থক এবং সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তারা বিমান সহায়তা দিচ্ছে।

এর আগে হুতি মুখপাত্র সারি জোর দিয়ে বলেছিলেন, গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে হুতিরা যে অঞ্চলগুলো দখল করেছিল, সেগুলোর সবই এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি লিখেছিলেন, ‘মাঠে আমাদের অগ্রসর হওয়া সব এলাকার ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’

সারি আরও দাবি করেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এল-ওয়াজিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে হুতিদের অবস্থানের দিকে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তারা সরকারি বাহিনীকে পিছু হটিয়ে দিয়েছে।

হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, হাজ্জাহ প্রদেশের একটি গ্রামে সৌদি আরবের বিমান হামলায় একটি পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি বাহিনী সোমবার জানিয়েছিল, তারা ‘বিভিন্ন ফ্রন্টে সাফল্য’ অর্জন করেছে।

তবে সরকারি সামরিক সূত্রগুলো মোচা পুনর্দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। 

তারা শুধু জানিয়েছে, শহরটির দিকে যাওয়ার একমাত্র সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে তারা হুতিদের সরিয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।

মোচা থেকে পালিয়ে আদেনে আশ্রয় নেওয়া ৩৩ বছর বয়সী দাতব্য সংস্থার কর্মী মোহাম্মদ এএফপিকে বলেন, ‘সেখানকার মানুষ ভীষণ আতঙ্কিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোচায় জীবন পুরোপুরি থেমে গেছে। নগরীতে কানো চলাচলই নেই। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।”

সরকারি বাহিনী মারিব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলেও অগ্রগতির দাবি করেছে।

উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাতিসংঘের কার্যক্রম আরও সমন্বয়ের আহ্বান বাংলাদেশের

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং তাদের কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রণীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামোর (২০২৬-২০৩১) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আরও জোরালো অংশীদারত্বের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং অভিন্ন অগ্রাধিকার ও জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখায় জাতিসংঘ কান্ট্রি টিমের নেতৃত্ব দেওয়া ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াকের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সম্প্রতি সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং তাদের কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশের সংস্কার ও উন্নয়নের কাঠামোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে হুমায়ুন কবির জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মিয়ানমারে সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই এই সংকট সমাধানের একমাত্র স্থায়ী পথ।

ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে জাতিসংঘের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জাতিসংঘ প্রতিনিধি ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে জাতিসংঘের কান্ট্রি টিম প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।

আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ফুটবল যাদুকর লিওনেল মেসি। বুয়েনস আয়ার্সে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে শেষ ম্যাচে আবেগঘন বিদায় নিলেন তিনি। ভালোবাসায় সিক্ত আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা তাকে শেষবারের মতো মাঠে দেখলেন।

নিখুঁত এক সমাপ্তিতে, ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত ৩৯ বছর বয়সী মেসি ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম গোলটি করেন। তার দল আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে বেনিনকে হারায়।

রেকর্ড বাড়িয়ে ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা মেসি ম্যাচের প্রথম গোলটি অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্দিকে দিয়ে করান। আরেকটি গোল করেন নিকো পাজ।

তবে ম্যাচের ফলাফল ছিল মূল আয়োজনের তুলনায় গৌণ। কারণ, ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত এই আয়োজনে মেসি শেষবারের মতো মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের দর্শকদের ভালোবাসা ও সম্মান উপভোগ করেন।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মেসি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি রক্ষা করতে পারা আমার জন্য বিশাল গর্বের বিষয়।”

তিনি বলেন, “আর এখানে না আসাটা ভীষণ কষ্টদায়ক হবে। আমি শপথ করে বলছি, সারা জীবন খেলতে চাই, কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটতে পারে এমন সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।”

তবে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মেসির কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি আর্জেন্টিনার কঠিন বিশ্বকাপ অভিযানের কথা উল্লেখ করেন, যে সময় তার প্রয়াত বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, এটিও সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানান তিনি।

মেসি বলেন, “যদিও আমি সারাজীবন এখানে থাকতে চাই, তবু আমার মনে হচ্ছে এটাই সঠিক সময়। সর্বশেষ বিশ্বকাপটা অনেক বেশি কঠিন ছিল, আমাকে অনেক কিছু পার করতে হয়েছে।”

এর আগে মেসি চোখের পানি মুছতে মুছতে স্টেডিয়ামের পথে এগিয়ে যান। তাকে ও আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থদের বহনকারী বাসের চারপাশে ছিল অসংখ্য শুভাকাঙ্খীর ভিড়।

মেসি তার তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। ভিআইপি বক্স থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি তাকে স্নেহভরা হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান।

কিক-অফের কিছুক্ষণ আগে মাঠে বিশাল একটি আর্জেন্টিনার জার্সি বিছিয়ে দেওয়া হয়। তাতে মেসির ১০ নম্বরের ওপরে লেখা ছিল ‘Gracias’ (ধন্যবাদ)। দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে সেটিকে স্বাগত জানান।

ফকল্যান্ডস যুদ্ধের সাবেক সেনা ফ্যাবিও সান্তানা জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় মেসি আবারও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার পাশে ছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল “মালভিনাস আর্জেন্টিনার”। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা একই ব্যানার উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলা এক মিনিটের জন্য থামিয়ে তাকে করতালিতে অভিবাদন জানানো হয়। বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের সাবেক এই তারকা ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বিদায়ী ম্যাচটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন।

শেষ বাঁশির পর স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শো শুরু হয়। রাতের আকাশে ভেসে ওঠে মেসির ছবি এবং আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

নিউ জার্সিতে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের আড়াই মাস পর মেসির বিদায় হলো। সেই ম্যাচে উত্তপ্ত পরিবেশের ১-০ হারে তেমন প্রভাব রাখতে না পেরে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছাড়েন তিনি। তখন মেসি লিখেছিলেন, “আমি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই আমার অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, অসাধারণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা নিজেদের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।”

আজকের ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে।

এর আগে আরও বেশি পড়াশোনা না করার জন্য আক্ষেপের কথা বলেছিলেন মেসি। তবে এই সম্মান পেয়ে তিনি গর্ব প্রকাশ করেন।

রসিকতা করে তিনি বলেন, “আমি বলতে পারব যে আমি একজন সম্মানসূচক ডাক্তার!”

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তরের বাইরে সমর্থকেরা মেসির ছবি সংবলিত একটি বিশাল আর্জেন্টাইন পতাকা মেলে ধরেন। সেখানে লেখা ছিল, “আমার জীবনের আনন্দ।”

বার্সেলোনায় মেসির সাবেক সতীর্থ নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বিদায়ী চ্যাম্পিয়নকে শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, “শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ তার জন্য পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায় । আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য ধন্যবাদ।”

মেসির সঙ্গে ইন্টার মায়ামির চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যৗল্প রয়েছে। তবে দুই মাস আগে তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রত্যাশার চেয়েও আগেই হয়তো চিরতরে বুটজোড়া তুলে রাখতে পারেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির বিদায় তার সবচেয়ে বড় সাফল্যের চার বছর পর এলো। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সময়ে দলটি একটি বিশ্বকাপ জিতেছে, দুবার রানার্সআপ হয়েছে- ২০১৪ সালে ব্রাজিলে এবং ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকায়। এ ছাড়া ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে আর্জেন্টিনা।

শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : ড. মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। 

বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে এ দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। এটা কঠিন দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব শুধু তাদের নয়, আজকে আমরা যারা বয়স্ক, আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে যাতে তারা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যদি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হও, সেটার দায় আমাদের ওপর এসে বর্তাবে। তাই তোমরা যদি দেশকে ভালোবাসো, তাহলে বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

শিশুদের অধিকার নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ১৩ বছর আগেই ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অনুধাবন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে’- এই কথার অর্থ হলো- শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে শিশুদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুরা বাংলাদেশের শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। আজকের অভিজ্ঞতা তাদের সারাজীবন মনে রাখা উচিত।

সৃষ্টির চাকার সঙ্গে শিশুদের ভবিষ্যৎকে তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবী কখনো থেমে থাকে না। সৃষ্টির চাকা ঘুরে চলেছে এবং তা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। শিশুরা সেই সৃষ্টির চাকারই একটি অংশ। তাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে আমরা যে শিক্ষা আজকে নেব, সেই শিক্ষা তোমাদের জীবনে প্রতিফলিত করবে। তোমরা ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম।

বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

এশিয়ান গেমসে আবারও হতাশ করলো বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। ৯ বল বাকি থাকতে পাকিস্তান জয় নিশ্চিত করে।

শনিবার ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মাঠে নামবে লিটন দাসের দল।

তাওহিদ হৃদয়ের লড়াকু ইনিংস শেষ পর্যন্ত সান্ত্বনা হয়েই থেকেছে।

গত তিনদিনের বৃষ্টির কারন করোগি স্পোর্টস পার্কের আউটফিল্ড ভেজা থাকায় সেয়া একঘন্টা দেরীতে ম্যাচ শুরু হয়। ওভার কমিয়ে ১৩ ওভার নির্ধারিত হয়।

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান।

তাওহিদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের সুবাদে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে। হৃদয়ের ইনিংসে ছিল ৪টি ওভার বাউন্ডারি ও ২টি বাউন্ডারি।

এছাড়া সাইফ হাসান ১৭ বলে ১৯ এবং মোসাদ্দেক হোসেন ১৬ বলে করেছেন ১১ রান।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিল। ৭.৪ ওভারে ৫০ ও ১০০ রান আাসে ১১.৬ ওভারে।

পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার সুফিয়ান মুকিম ২৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

১৫টি ওয়াইডসহ অতিরিক্ত রান হয়েছে ১৫।

১১২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান ১১.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।

আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৫টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারিতে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন। হাসান নাওয়াজ করেছেন ২২ বলে ২৭ রান। এই জুটি ২৪ বলে ৫০ রান করে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন।

এবারের গেমসে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের স্বর্ন পদকের স্বপ্ন ছিল। যে কারনে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে এসেও ফাইনালে খেলা হলোনা বাংলাদেশের।

নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে তিনি রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সাথে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতেও তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তেজগাঁওয়ে আজ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে।’

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে সব দাবি দাওয়া আছে এগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে পূরণ করবো। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আনসার ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিকল্পিত জায়গায় একটা সদর দপ্তর স্থাপিত হবে। সেটি আজ পূরণ হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রায় ১১ বিঘার মতো জায়গা বরাদ্দ পেয়েছি এ সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য।’

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া তাদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আপনারা সবাই জানেন আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন আছে। তাদের সম্পর্কে আমাদের গর্ব করার মত অনেক জায়গা আছে। অথচ এ বাহিনীর বর্তমান সদরদপ্তরে স্থান সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।

অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করা হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পরে ট্রাফিক সিস্টেমে যে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে তা প্রশংসিত হয়েছে। আমরা এ ধারা অব্যাহত রাখবো।’

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ৫ লাখ ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিল যুক্তরাষ্ট্র

দেশে চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হিসেবে মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস্ কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএসআই র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এসব কিট হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।

এ সময়ে ডেঙ্গু টেস্টিং কিটগুলো দ্রুত দেশজুড়ে বিতরণের নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সব কিট সরাসরি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এসব কিট পৌঁছে দেওয়া হবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে। ফলে দেশের যে কোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান, মার্কিন দূতাবাস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও রোগনির্ণয় পরীক্ষাগার ঘুরে দেখেন৷

ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনব্যাপী সফরে ফেনী পৌঁছেছেন। এ সফরে তিনি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুর সোয়া একটার দিকে ফেনীতে এসে পৌঁছেছেন। তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যাচ্ছে।

এর আগে তিনি সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। ফেনীতে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজীসহ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের স্মৃতি রয়েছে। এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি স্থানীয় জনগণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন । এরপর তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি ছাদ ভিত্তিক (রফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করবেন।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করবেন।

ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে।

বাইউস্টের ১০ম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বাইউস্ট)-এর ১০ম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামাল উদ্দিন কমল, এনডিসি, পিএসসি-এর সভাপতিত্বে সভায় একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।


সভায় উপস্থিত ছিলেন আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের (এডুকেশন ডিভিশন) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি (অব.), বাইউস্টের ট্রেজারার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখারুল হক, পিএসসি (অব.), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ সামছুল আরেফিন, কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, পিএসসি, কর্নেল অ্যাডমিন, এরিয়া সদর দপ্তর, কুমিল্লা এরিয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাংগুয়েজের অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম হোসেন, বাইউস্টের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তহিদুর রহমান এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতেমা জোহরা।


এ ছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের এজির শাখা (ডব্লিউ অ্যান্ড আর ডিটিই)-এর পরিচালক, ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, এরিয়া সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রশিদুল ইসলাম, এসিউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল অনলাইনে সভায় যুক্ত হন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মাহমুদ হোসেন, এসপিপি, পিএসসি (অব.) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।