অনলাইন ডেস্কঃ- শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দেশের বেকারত্ব কমাতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, সরকারের বাজেট ঘাটতি নেই। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, সরকার সেসব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ৩৭টি কলেজের ৫৭ শিক্ষার্থীকে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
অনলাইন ডেস্কঃ- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন-বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট সোমবার শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।এ মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও আইনজীবী ইসরাত জাহান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
এতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন(রাষ্ট্রপক্ষ)
ওবায়দুল কাদেরসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
রোমানা সানজুঃ- রাজধানির উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ক্যান বিয়ার উদ্ধার করেছে র্যাব-১। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৪৭০ দশমিক ৮৬ লিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা।
র্যাব-১ জানায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের আজিজ স্কয়ারের বাড়ি নম্বর-৯৮-এ অবস্থিত উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের পঞ্চম তলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ক্লাবের পঞ্চম তলার একটি কক্ষ থেকে বিদেশি বিয়ার ক্যান এবং দেশি-বিদেশি মদের বোতলসহ মোট ৭৭৯টি বোতল/ক্যান উদ্ধার করা হয়। র্যাবের হিসাবে এসব মাদকদ্রব্যের মোট পরিমাণ ৪৭০ দশমিক ৮৬ লিটার।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ রাসেল (২৮), উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার। তাঁর পিতা মোঃ অলি উর রহমান, মাতা মোছাঃ রুজি আক্তার। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা সাং- উত্তর সুতাল লরী, থানা- মোড়লগঞ্জ, জেলা- বাগেরহাট এবং বর্তমান ঠিকানা নয়া নগর, পুরান কালিয়া, থানা- তুরাগ, ডিএমপি, ঢাকা।
অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি মোঃ নয়ন মিয়া (৩৮), উত্তরা লিবার্টি ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর। তাঁর পিতা মোঃ নবি হোসেন, মাতা মোছাঃ আমেনা বেগম। ঠিকানা সাং- বড় বেরাইল, চিনাদি পাড়া, থানা- বাড্ডা, ডিএমপি, ঢাকা।
র্যাব জানায়, অভিযান চলাকালে ক্লাবের সভাপতি, কয়েকজন কর্মচারী ও আরও কিছু ব্যক্তি র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-১ আরও জানায়, মাদক চোরাকারবার ও ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুইজন এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৭ ধাপের আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এগুলোতে ৭ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ধাপের ভোট আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হতে পারে। তবে এগুলো এখনও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেশের সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে।
মেহেদী হাসানঃ– রাজধানী ঢাকার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে অবস্থিত ‘শাপলা চত্বর’ কেবল একটি বৃত্তাকার ট্রাফিক আইল্যান্ড বা চত্বর নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচিতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক অনন্য নীরব সাক্ষী।
ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট
ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে মতিঝিল এলাকাটি মূলত নওয়াবদের বাগানবাড়ি ও ঝিলঘেরা এলাকা ছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী নির্মম গণহত্যা চালায়, যার ঐতিহাসিক স্মৃতিবাহী গণকবরের দাগও এলাকাটিতে রয়েছে। স্বাধীনতার পর মতিঝিলকে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা (Central Business District) হিসেবে গড়ে তোলা শুরু হলে, এর ঠিক কেন্দ্রস্থলে একটি জাতীয় পরিচায়ক ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। জাতীয় ফুল ‘শাপলা’-কে সম্মান জানিয়ে চত্বরটিকে ‘শাপলা চত্বর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
স্থাপত্য ও নান্দনিক বর্ণনা
কেন্দ্রীয় ভাস্কর্য: চত্বরের মাঝখানে নির্মিত একটি বৃত্তাকার কৃত্রিম জলাধারের কেন্দ্র থেকে ইট, সিমেন্ট ও ধাতব কাঠামোয় গড়া একটি বিশালাকার ফুটন্ত সাদা শাপলা ফুল আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।
পাপড়ি ও ফোয়ারা: জলাধারের পানিতে ছড়ানো শাপলা পাতা এবং উন্মুক্ত পাপড়িগুলোর চমৎকার অবয়ব পানির ওপর আসল শাপলা ভেসে থাকার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে। চারপাশে থাকা পানির ফোয়ারা ও বিশেষ আলোকসজ্জা রাতে স্থানটিকে নান্দনিক রূপ দেয়।
রূপক তাৎপর্য: জলাধারের পানি ও ভাস্কর্যের লাল-সবুজ আবহ রূপক অর্থে বাংলাদেশের সবুজ ভূখণ্ড, লাল সূর্য এবং নদীমাতৃক রূপকে তুলে ধরে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
শাপলা চত্বরকে বলা হয় বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘হৃৎপিণ্ড’। একে কেন্দ্র করে চারপাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রধান সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান—
উত্তর-পূর্বে: দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’।
চারপাশে: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (DSE), সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সাধারণ ও জীবন বীমা কর্পোরেশনসহ একাধিক বৃহৎ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।প্রতিদিন লাখ লাখ চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের পদচারণায় স্থানটি এক কর্মমুখর রূপ নেয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক আবর্ত
বাণিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি শাপলা চত্বর বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচিতে দেশব্যাপী লাখ লাখ মানুষের অবস্থানের স্থান হিসেবে শাপলা চত্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বহুল আলোচিত হয়।
ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন, স্থাপত্যের সৌন্দর্য আর প্রাত্যহিক অর্থনৈতিক ব্যস্ততার সমন্বয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর আজও ঢাকার অন্যতম প্রধান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে স্বমহিমায় টিকে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে থেকে ২১ তারিখ রওনা হবেন এবং নিউ ইয়র্কে ২৬ তারিখ পর্যন্ত থাকবেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরবেন।
জাভা সাগরে নিখোঁজ হওয়া ইন্দোনেশিয়ার একটি যাত্রীবাহী জাহাজ থেকে একজনের মরদেহ ও ১০২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়া ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামক জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর একটি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।জাহাজটিতে মোট ২৪৩ জন যাত্রী ছিলেন।
বাকি যাত্রীদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।জাহাজটি সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমন্তানের বানজারমাসিন শহরের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ২টার দিকে সর্বশেষ বানজারমাসিনের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান ছিল বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জাভা সাগরের ওই অঞ্চলের অন্য সব জাহাজকেও যাত্রীদের কোনো সন্ধান পাওয়া মাত্রই তা রিপোর্ট করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসে মাদুরা দ্বীপের কাছে ইন্দোনেশিয়ার আরেকটি ফেরিতে আগুন লাগার ঘটনায় পাঁচজন মারা গিয়েছিলেন।
ইন্দোনেশিয়া একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যেখানে ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। সেগুলোতে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম জাহাজ।
অনলাইন ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ, জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পারস্য কবি ও মণিষীদের সৃজনশীল কর্ম ও সাহিত্য এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সাংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি এসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন।মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে। তিনি সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এসময়, রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে সে দেশের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, তিনি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময়, ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ ও ইরান একযোগে কাজ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
অনলাইন ডেস্কঃ- হামে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা গতকাল বুধবার এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার কাজে অবহেলাকে এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। এ ছাড়া শিশুদের কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অপুষ্টিকে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বাংলাদেশে গত ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল। আর ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়া যেত। কিন্তু এবার একেবারে উল্টো হয়ে গেল পরিস্থিতি। যে হাম ভুলে যাওয়া অসুখে পরিণত হয়েছিল, তা আজ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। চলতি
বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়নি। গত মার্চ থেকে হাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাসজুড়ে চলে গণটিকাদান। কিন্তু সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে হামের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০২ জনে। এর মধ্যে উপসর্গে মারা গেছে ৯০২ জন, আর হামে ১০০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের উপসর্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৯ শিশু। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৯। গত ১০ এপ্রিল থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দেশে উপসর্গ ও নিশ্চিত মিলিয়ে হাম রোগীর সংখ্যা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪।
জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এত হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড এর আগে নেই। এটি নজিরবিহীন।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ এ বছর হাম সংক্রমণে শীর্ষে উঠে এলেও আগের বছরগুলোয় চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২২ সালে ৩১১ জন।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন সংকট দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার পুরোটাই বা ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল। ২০১০ সালে ফলোআপ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। সেবারও কভারেজ ছিল ১০০ শতাংশ। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচির মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ৫ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছিল। সেবার কভারেজ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০২০-২১ সালের পর বিশেষ ক্যাম্পেইন আর হয়নি। এর মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের কভারেজও কমতে থাকে। ২০২৫ সালে এ হার ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতাও দেখা দেয়।
এবার প্রাদুর্ভাবের পর গত এপ্রিলে বর্তমান বিএনপি সরকার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাদানে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করে, কিন্তু তাতেও ৪৬ লাখ শিশু হামের টিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে। কারণ, হামের টিকা দিতে এই বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুর হিসাব করা হয়, কিন্তু গত জুনে একই বয়সী ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে আওতায় আনা হয়।
অনলাইন ডেস্কঃ স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের দল এলদেনসের মালিকানা নিতে প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। একটি সূত্র ইএসপিএন-কে নিশ্চিত করেছে।
এলদেনসে বর্তমানে কলম্বিয়ান ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ গ্রুপো টিএইচ-এর মালিকানাধীন। তাদের কলম্বিয়া ও সুইজারল্যান্ডেও ক্লাব আছে। এই চুক্তি এখনও যথাযথ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়া এবং স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেলে এলদেনসে স্পেনে মেসির মালিকানাধীন দ্বিতীয় ক্লাব হবে। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড কর্নেলারও মালিকানা কিনেছেন। এই বছরের শুরুতে বার্সেলোনা শহরের পঞ্চম বিভাগীয় দলটি কিনেছিলেন তিনি।
তবে দেশের প্রথম পেশাদার ক্লাব হিসেবে এলদেনসের ওপর বিনিয়োগ করছেন মেসি, কর্নেলা আধা পেশাদার ক্লাব। ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইতোমধ্যে উরুগুয়ের দেপোর্তিভো এলএসএমের আংশিক শেয়ার কিনেছেন তার বন্ধু ও ইন্টার মায়ামি তারকা লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে।
এলদেনসে ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত। ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় তারা স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ দুটি বিভাগের বাইরে ছিল। ১৯৬৪ সালের পর প্রথমবার ২০২৩ সালে তারা দ্বিতীয় বিভাগে উন্নীত হয়। পরে ২০২৫ সালে অবনমিত হয়ে তৃতীয় বিভাগে খেলছে। ক্লাবটি এলদা শহরের ৫৭৭৬ আসনের নুয়েভো পেপিকো আমাত স্টেডিয়ামে হোম ম্যাচ খেলে।